একসিডেন্ট

কেন লিখি জানেন ?

শখ।

শখ নাকি ?

১৯৮০র হলুদ আলোয় ধুয়ে যায় আমার গ্রাম। একটা স্ট্রিটলাইট। পেছনে বাদামি আকাশ আর এক চিলতে লাল চাঁদ।  রক্তবীজ।
এই গ্রাম আমার ভালো থাকার ইতিহাস।

সিউডো আঁতলামি করে খোদ্দের পাচ্ছেন ?

সমরেস্বর বলছেন চন্দ্রিলতা অপ্রাসঙ্গিক। একটু বেশি এগিয়ে গেছি মনে হচ্ছে।
চন্দ্রি এগিয়ে যাচ্ছে ওই অকার ইয়েলোর দিকে। মিশে যাচ্ছে ওই অয়েল পেন্টিং এর ক্যানভাস এ। 
সমরেস্বর পাঞ্জাবীর হাতাটা গুটিয়ে নিচ্ছেন। হাসছেন।

হাসছেন।

কখনো লেখার মধ্যে এমন হেঁয়ালি করেছেন যার অর্থ একমাত্র আপনি বোঝেন ?

ইনসাইড জোক। অন্তর্মুখী ছেলেখেলা।

হা হা হা হা হা হা হা।

জীবনানন্দকে আমি বুঝি খুব কম। কিন্তু লোকটার মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা হতে পারে না।

একসিডেন্ট।

যদি না কেউ জেনেবুঝে ট্রামলাইনে ঝাঁপ দেন।

একজন নারীর প্রেমে পড়েছিলাম। সহ্য হয়নি। সংসারের বাঁধনগুলো কিভাবে
কমলালেবুর খোসার মতো ছাড়াতে হয় আমি জানি।

আমি জানি।

আমার অনেক গল্প আছে, জানেন তো ? সমরেস্বর ?
সমরেস্বর এখন তামাকু সেবন করবেন।
বিড়ি ধরাচ্ছেন।

ধরিয়েছেন।

তোমার লেখায় বড্ড বিষাদ, বুঝলে বোধিসত্ত্ব ?
শুধু মৃত্যু আর যৌনতা।

বিষাদ।

বিষ।

আমার লেখায় বড্ড বিষাদ, বুঝলেন সমরেস্বর ?
শুধু মৃত্যু আর যৌনতা।

যাই এবার।

কিভাবে যাবে ঠিক করলে ?

ওই যে বললাম।

একসিডেন্ট।

যদি না কেউ জেনেবুঝে ট্রামলাইনে ঝাঁপ দেন।

হাততালি

আমি নরখাদক নোই, তবে
মানুষের মনটা খুব সুস্বাদু।
ওল্ড মংক দিয়ে ভালোই চলে।
যদি তার সাথে শুকনো বোঁদে 
বা বাসি আলুভাজা থাকে 
তাহলে তো কথাই নেই !
যেখানেই মানুষ দেখতে পাই, বসে পড়ি। 
আর সময়মতো শুষে নিই  নির্দ্বিধায়। 
ওদের স্বপ্ন, ওদের শব্দ, ওদের কবিতাগুলো -- 
সমস্ত আপন করে নিই 
পরমুহূর্তে নিজের নামে ছাপিয়ে নিই ওগুলো,
আর আপনারা হাততালি দেন। 
লোভ হয় ভীষণ, জানেন তো ।
ওই হাততালিতে ।

অন্যরকম গল্প

যদি কোনোদিন, এই শরীর ছেড়ে চলে যাই স্বেচ্ছায়
তাহলে তোমার জন্য লিখবো ছোট্ট চিরকুট;
তাতে হয়তো দু লাইনের হাইকু লিখে
বিশ্রাম নেবো কিছুক্ষন।
পেনের ডগাটা চুষবো, কালি লাগবে জিভে
মেজাজ ভালো থাকলে, কাউকে দোষ
দেব না ভাবছি। এই সংসার আমার ছিল না --
যেমন কবিরা বলে আর কি !
শুধু মনে পড়বে তোমার, শুকনো পাতার মতো
খসখসে হাত। লাফ মারবার আগে,
ওগুলো শেষ বারের মতো ধরতে
চেষ্টা করবো। ব্যর্থ হবো।
সিমেন্টের চাতালটা আহবান করতে এগিয়ে আসবে
নাক তখন রক্তারক্তি, জ্ঞান হারাবো পরমুহূর্তে
কিন্তু তার আগে, শেষবারের জন্য,
বাক এর প্রিয় চেলো টা শুনতে পাবো।

The Newtonian chirp waveform

Two back holes of masses \(m_1\) and \(m_2\) are supposed to be orbiting each other while emitting radiation (and energy) in the form of gravitational waves. The emitted gravitational waveform is characterized by both the amplitude and the phase increasing with time giving rise to a 'chirp' waveform.

The problem can be treated perturbatively when the distance of separation is large and we only consider the leading order terms. This is referred to as a 'Newtonian chirp' and this is what we shall consider for the remainder of the exercise.

The Newtonian chirp can be represented as,

\[ h(t) = A(t) \cos \phi(t) \]

where the amplitude depends on a particular combination of masses called the chirp mass \(M \ (=\frac{(m_1 m_2)^{3/5}}{(m_1 + m_2)^{1/5}})\), the instantaneous frequency \(F(t)\), the luminosity distance to the source \(D\) and \(C\), a geometric factor which we will take as \(1\).

\[ A(t) = \frac{4 C M^{5/3}\pi^{2/3} F(t)^{2/3}}{D} \]

The frequency of evolution is given by,

\[ F(t) = \frac{(M F^9_0)^{1/8}}{[(M F_0)^{1/3} - 256 F^3_0 M^2 \pi^{8/3} t/5]^{3/8}} \]

Here \(F_0\) is the starting frequency and the approximation breaks down at the coalescence time \(t_c\),

\[ t_c = \frac{5}{256 (\pi F_0)^{8/3} M^{5/3}} \]

The phase of the signal is expressed as,

\[ \phi(t) = \phi_0 - 2 \left(\frac{1}{256 (\pi M F_0)^{8/3}} - \frac{t}{5M} \right)^{5/8} \]

The chirp mass is usually measured in solar masses which is \(4.92549095 \times 10^{-6} s\).

A sample chirp signal with chirp mass \(10 M_{\odot}\).

Generating the data

To generate the data we will make use of Numpy's random number generator to generate normal noise.

We do this by first finding out the maximum of the amplitude of the chirp waveform and then using np.random.normal to generate noise having maximum possible amplitude equal to the maximum amplitude of the chirp signal.

We then add the chirp signal to the noise at some position and this constitutes our sample data. We will now perform analysis on this to recover one of the parameters of the signal (here, the chirp mass).

The generated data with our signal hidden in normal noise.

Matched filtering

For a signal buried in stationary Gaussian, white noise, we use matched filtering which involves cross-correlating the data with a template of the signal. The correlation function between the data time series \(x(t)\) and the template \(h(t)\) is given by,

\[ R(\tau) = \int^{\infty}_{-\infty} x(t) \hat{h}^{\star} (t - \tau) dt \]

where \(\star\) denotes complex conjugation and \( \hat{h}(t) = h(t)/||h||\), where,

\[ ||h||^2 = \int^{t_c}_{0} |h(t)|^2/\sigma^2 dt \]

The parameters, \(C=1\), \(D = 150\), \(F_0 = 40.0 \) and \(\phi_0 =0\) are given. We are only required to find the chirp mass of the signal hidden in the data.

The steps to proceed are as follows:
  1.  Create a bank of templates, having chirp masses within a certain range, say from \(8\) to \(12\).
  2. Correlate each of the template with the given data.
  3. Record the maximum value of the correlation in cases.
  4. Plot the maximum value of correlation with chirp mass.
If you have done things correctly you will find a plot similar to the one shown below. Here we have recovered the unknown chirp mass of the signal to be \(10\).

Results of the correlation analysis show chirp mass to be \( 10 M_{\odot}\).

References

  1. Tutorials for GW Astronomy course, Ghosh et. al., Summer School on Gravitational wave Astronomy 2016, ICTS-TIFR.
  2. A Gravitational-Wave Data Analysis Primer for the IndIGO Mock Data Challenge, Ajith et. al.

আলেয়ার আলো

সাড়ে চার বাই সাড়ে ছ-ফুট কিউবিকেল এ বসে স্বপ্ন দেখার সময় প্রায় না থাকে বললেই চলে। গত দেড় বছর যখন অনুর্বর জমিতে চাষ করতে অক্ষম হয়েছিলাম, তখনই বোঝা উচিত ছিল গলদটা কোথায়। বুঝিনি, কারণ বুঝতে আমার দেরি হয়, যেরকম সব সময় হয়ে এসেছে। বাস্তবতা ও বিপ্লব যেন একে অপরের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী - আমার ইন্দ্রিয়গুলো যেন শুকিয়ে যায়, গা গুলিয়ে ওঠে। মনে হয়, সেই হাজার বছর ধরে যে গল্প লিখে এসেছি, যা আমার পিতৃপুরুষেরা শিখেছিল, তার গন্ডির বাইরে বেরুতে পারবো না। মনে হয়েছিল যেন শেষের কবিতা লিখবো আমার রক্ত দিয়ে। বদভ্যসে ধরেছিল, দু চারটে বিড়ি ধরিয়ে নদীতে পেচ্ছাপ করেছিলাম। যে হাংরি হয়েছিলাম, সে হাংরি আজও।

কোনোদিন ভক্তি ভরে হরে-কৃষ্ণ করা লোকগুলোর দিকে তাকাইনি, আজ যেন বুঝতে পারি, ওরা কেন এরম করে। কেমন আছো, জিজ্ঞেস করে সবাই। কি করে বলবো যে আমি ভাল আছি ? ভালো নয়, আমি তৃপ্ত।

সমুদ্রের বালি যখন কাপড়ের শেষ অংশটা শুষে নিয়েছিল, তখন পাড়ে পড়ে থাকা, আধা সজ্ঞান অবস্থায় নিজের নগ্ন দেহটাকে মেনে নিতে অসুবিধে হয়নি। প্রথমবার যেন নিজের ভেতরের অস্থিরতা, উন্মাদনার সঙ্গে এক হয়েছিলাম। আজও আছি।

আসলে সব লেখার মধ্যে আছে আবেগ। কোন লেখা পড়লেই যেন পুরোনো স্মৃতিগুলো মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলোতে ভিড় করে। অতএব আবেগের পুনরাবৃত্তি ঘটে, ঘটানোর চেষ্টা হয় - এই তো সব লেখার সত্য। এর উপরেই বাজি রাখতে সাহস পায়নি হয়তো এতদিন।

আমাদের মধ্যে, কথোপকথন এর ফাঁকে, ফোনের হালকা গরম স্পর্শে তুই ছিলিশ। হয়তো স্বপ্নের মতো দিনগুলো শেষ হলেও তুই ই থাকবি। যেমন ছিলিশ নতুন করে দাঁড়িয়ে ওঠার কোনো এক মুহূর্তে। ভেবে দেখিনি কতদিন, শুধু মাঝে মধ্যে গাল ভরে হেসেছি।

জীবন থাকতে মৃত্যুকে বেছে নিতে হয়নি আমায়। আলোটাকে আমিও দেখেছিলাম।
প্রগতির বাঁধন ভেঙ্গে  ঘোলাটে গঙ্গার বুক চিরে যখন নীলচে হয় এক ঝলক আলো 
তখন বিকেলে গোধূলির নেশায় কালবৈশাখীর দেখা মেলে পশ্চিম কোনে
নরম মাটিকে ছুঁয়ে যায় কাদাজলের কচুরিপানারা 
সেইরকম কোন এক পাড়ে কোন এক নেশায় মাতোয়ারা কোন এক কালবৈশাখীর অন্ধকারে
তোমার রুক্ষ কেশরাশির মধ্যে নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে চেয়েছিলাম
 তোমার নির্বাক স্তব্ধতাকে প্রকাশ্যে চুম্বন করেছিলাম আরও একবার 

কেন এই বিষাক্ত চুম্বনের মায়াজাল ছাড়িয়ে উড়ে যাও না ?

কেন এই পাঁড়-মাতাল লোকটাকে প্রতিদিন রাতে তোমার শরীরটাকে অমর্যাদা করতে দাও ? 
কেন তুমি ওই তলপেটের কালশিটে আর নখের আঁচরগুলোর গল্পদের হাশিমুখে ধামাচাপা দাঁও ? 
তোমার চোখের জল আমার নিত্যদিনের নিকোটিন
তোমার আর্দ্র দীর্ঘশ্বাস আমার প্রমত্ততার  পুরস্কার 
ভালবাসার ছলনায় যেদিন তোমায় দিন দুপুরে মোটা টাকায় রঙ্গমঞ্চের দালালদের কাছে বেচে দিয়েছিলাম
সেদিনও কি তুমি তোমার ওই পাথর দুটো চোখ দিয়ে সুখের সংসারের স্বপ্ন দেখে গেছিলে ? 
নাকি প্রতি রাতের মতন তোমার হতাশাগুলোকে চাপা উল্লাসের ফাঁকে লুকিয়ে রেখেছিলে ? 

দিনদুপুরের ঠুনকো লাল-বিপ্লব কাগুজে বাঘের মতন খশে পড়েছিল
ফুটপাতে শোওয়া আধা ল্যাংটো পাগলটা না খেতে পেয়ে কেঁদেছিল 
আর তুমি ? 
তোমার মুখের ভাত আমি ভেসুভিয়াস এর শিরায় ভাসিয়েছিলাম
আজও কেড়ে নিই, মনে হয় হাজার হাজার বছর ধরে কেড়ে এসেছি

কালবৈশাখীর জমাট বাঁধছে পশ্চিম কোনে
নরম মাটির বুক চিরে ভেসুভিয়াস এর হ্রদ বয়ে যায় গোধূলিতে বারোমাস 
সেইরকম কোন এক পাড়ে কোন এক নেশায় মাতোয়ারা কোন এক কালবৈশাখীর অন্ধকারে
একলা আমি, স্তব্ধ তুমি, আর হাজার না হওয়া গল্পের নাভিশ্বাস ।

Eat, or be Eaten

A casual sketch, done in a very short period of time using Inkscape 0.91
Download the .svg file here.

মন খারাপের গান

ঝড় উঠেছে ঈশান কোনে, ম্লান হয়েছে ধরনির মুখ
গোলাপের রঙে বিঁধছে কাঁটা, দিশা হারিয়েছে অন্তর-সুখ
মায়াবী বিশ্বসংসারে আজ পেয়েছি স্থান অন্ধকারে
জন্ম-ধ্বংস-মৃত্যুর মাঝে খুঁজেছি আমি বাঁচার মানে
তুমি আসবে না তবু প্রকৃতি রূপে, খুঁজেছি তোমায় আলো-ছায়ায়
বৃষ্টি ভেজা মাটির সুরে, বাউল গানের একতারায়
ঝড় উঠেছে ঈশান কোনে, আবির মেখেছে আকাশের প্রান
মনখারাপের মেঘলা বিকেলে হৃদয়ে শুধু তোমার গান

তুমি প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি, হাসছ তোমার স্নিগ্ধতায়
ভালো মন্দের রামধনুতে মনপাহারির দূর দেশে যাই
রাত্রে তুমি জোনাকির মতো, নীরবে দিচ্ছ আলো
ব্যস্ত জীবন কোলাহলে আমি তোমায় বেসেছি ভালো
তুমি যে আমার জীবনশক্তি, স্বাধিনতার আশা
বিপ্লবী মনে জাগাও তুমি, তোমার ভালবাসা
তবুও ছুড়েছ পাথরের ধারে আমার ছোট্ট গান
নদিস্রতে তা মিলিয়ে গেছে, সব মান-অপমান

তুমি যে আমার বনলতা সেন, গাইছ মনখারাপের গান
কঠোর হওয়া শুকনো বুকে বৃষ্টি হয়ে জাগাও প্রাণ
আশ্রয় দেয় তোমার আঁখি, আঁধার নামে মনের রাতে
অন্ধকারে মশাল হয়ে ভাবাও আমায় রাতবেরাতে
হাসছ তুমি, গাইছ তুমি, ফুলের গন্ধে, মাটির পথে
বিপ্লব আজ থমকে গেছে, বিষণ্ণতাই আমার সাথে
ঘরছাড়া তুমি করেছ আমায়, মাতাল হয়েছি উন্মাদনায়
মোহনার বুকে ধুয়ে-মুছে যায়, ছোট্ট একটু আশা

নেশায় মেতেছি তোমার গন্ধে, গান লিখে যাই তাই
জীবন ফেলে, পাতার ভিড়ে, তোমাকেই খুঁজে পাই
আজ দিনের শেষে মেঘলা বিকেল ক্লান্ত হয়ে আসে
থেকেও না থাকা, ডেকেও না ডাকা, পাব না তোমায় পাশে
ভালো থাক তুমি, এই চায় মন, নিষ্পাপ ব্যাকুলতা
এ জন্মে আর হবে না যে দেখা, জীবনের ব্যর্থতা
তবু প্রতিদিন এসে, জীবনস্রোতে, তোমারই গান গাই
যদি একবার হাস, পাশে যদি বস, আবার দেখা পাই

নীলপরী, তোমাকে

খিদের জ্বালায় আসতে বাধ্য হই, হোক না বা অসময়
মেয়ে থেকে নারী হয়েছ, বড় দেখতে সাধ হয় তাই 
ভিড় রাস্তাটা শুনশান, তুমি আসনা, তোমার ছায়াটা আসে।
আমায় দেখে থমকে দাঁড়ায়, অন্যমুখি হয়। ভদ্রতার হাসি।
মুখোশ পড়ে বেদনাগুলো আড়াল করি। আমিও হেসে
এগিয়ে যাই তোমার কাছে। তারপর শুরু হয় পথচলা।

ভরদুপুরে কুয়াশা জমে, কে যেন হলুদ আলোগুলো জ্বালিয়ে দেয়  
পার্কে, মাঠে, বাজারে, রাস্তার ট্রামলাইনের ফাঁকে ফাঁকে
ওরা খেলতে থাকে তোমার মুখের উপর, এক চিলতে দেবী হয়ে
হেসে যাও তুমি, তারপর বাস্তবতা গ্রাস করে তোমায়-আমায়
স্মৃতিগুলো দু-ঘণ্টার গল্প হয়ে বইএর দকানের সামনে দিয়ে
ছুটে বেরিয়ে যায়। তখনও পার্কের রেলিংগুলো তোমার স্পর্শে উষ্ণ।

অবশেষে অন্ধকার হয়ে আসে, অসংখ্য মানুষ-ভিড়ে
হারিয়ে যাও আমায় ফেলে, কোথায় ? কবে আসবে আবার ?
চাবি দেওয়া জীবজন্তুগুলোর মাঝে দম বন্ধ হয়ে আসে।
তোমার পায়ের আওয়াজের পিছু নিই আমি, পথ হারাই গোলকধাঁধায়
চোখের জলের সোঁদা গন্ধে হঠাৎ তোমাকে  অসম্ভব মানুষ মনে হয়।
তারপর ঝাপসা আকাশের নীচে, আমায়, চুপিসাড়ে শুষে নেয় এই শহর।

মা, ভাত খাব

মা, তুমি রাগ করেছ ? তোমায় একা ফেলে
সেই হরিণীকে খুঁজতে-খুঁজতে আমি হাঁপিয়ে পড়েছি
ওকে না পাওয়ার উন্মাদনায় বাধ্য হয়েছি ফিরতে, 
সবই স্বার্থে --- ক্ষমা কোরো না আমায়
শুধু পায়ের কাছে রাখতে দাও মাথা।

মা, আজ আমার বনবাস শেষ।
নদীর জলে স্বেচ্ছায় বিষপান করেছিলাম।
গরম বালিতে পা পুড়েছে, জ্যোৎস্নার আলোয়
শহুরে কুকুরগুলো ছিঁড়ে খেয়েছে আমার দেহ।
আজ আমি নিঃস্ব। থাক্, অন্য একদিন।

মা, আমার গায়ে ধুলো লেগেছে।
কই, আজ আঁচল দিয়ে মুছে দেবে না 
সবার সামনে ? ওর সামনে ?
আজ ও নেই, আছে শুধু ছোট্ট ছায়াগুলো।
ওদের গল্প বলবখন্ তোমায়। অন্য একদিন।

দরজা খোলো মা, বাইরে ভীষণ রোদ
দু-চার মিনিট দেখব শুধু তোমায়
তার পরেই অদৃশ্য হব, কথা দিলাম।
অন্যায় হোক, আবদার কি মানবে না তুমি ?
ভিক্ষা চাইলে দেবে না দু মুঠো ভাত ?