নীলপরী, তোমাকে

খিদের জ্বালায় আসতে বাধ্য হই, হোক না বা অসময়
মেয়ে থেকে নারী হয়েছ, বড় দেখতে সাধ হয় তাই 
ভিড় রাস্তাটা শুনশান, তুমি আসনা, তোমার ছায়াটা আসে।
আমায় দেখে থমকে দাঁড়ায়, অন্যমুখি হয়। ভদ্রতার হাসি।
মুখোশ পড়ে বেদনাগুলো আড়াল করি। আমিও হেসে
এগিয়ে যাই তোমার কাছে। তারপর শুরু হয় পথচলা।

ভরদুপুরে কুয়াশা জমে, কে যেন হলুদ আলোগুলো জ্বালিয়ে দেয়  
পার্কে, মাঠে, বাজারে, রাস্তার ট্রামলাইনের ফাঁকে ফাঁকে
ওরা খেলতে থাকে তোমার মুখের উপর, এক চিলতে দেবী হয়ে
হেসে যাও তুমি, তারপর বাস্তবতা গ্রাস করে তোমায়-আমায়
স্মৃতিগুলো দু-ঘণ্টার গল্প হয়ে বইএর দকানের সামনে দিয়ে
ছুটে বেরিয়ে যায়। তখনও পার্কের রেলিংগুলো তোমার স্পর্শে উষ্ণ।

অবশেষে অন্ধকার হয়ে আসে, অসংখ্য মানুষ-ভিড়ে
হারিয়ে যাও আমায় ফেলে, কোথায় ? কবে আসবে আবার ?
চাবি দেওয়া জীবজন্তুগুলোর মাঝে দম বন্ধ হয়ে আসে।
তোমার পায়ের আওয়াজের পিছু নিই আমি, পথ হারাই গোলকধাঁধায়
চোখের জলের সোঁদা গন্ধে হঠাৎ তোমাকে  অসম্ভব মানুষ মনে হয়।
তারপর ঝাপসা আকাশের নীচে, আমায়, চুপিসাড়ে শুষে নেয় এই শহর।