প্রগতির বাঁধন ভেঙ্গে  ঘোলাটে গঙ্গার বুক চিরে যখন নীলচে হয় এক ঝলক আলো 
তখন বিকেলে গোধূলির নেশায় কালবৈশাখীর দেখা মেলে পশ্চিম কোনে
নরম মাটিকে ছুঁয়ে যায় কাদাজলের কচুরিপানারা 
সেইরকম কোন এক পাড়ে কোন এক নেশায় মাতোয়ারা কোন এক কালবৈশাখীর অন্ধকারে
তোমার রুক্ষ কেশরাশির মধ্যে নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে চেয়েছিলাম
 তোমার নির্বাক স্তব্ধতাকে প্রকাশ্যে চুম্বন করেছিলাম আরও একবার 

কেন এই বিষাক্ত চুম্বনের মায়াজাল ছাড়িয়ে উড়ে যাও না ?

কেন এই পাঁড়-মাতাল লোকটাকে প্রতিদিন রাতে তোমার শরীরটাকে অমর্যাদা করতে দাও ? 
কেন তুমি ওই তলপেটের কালশিটে আর নখের আঁচরগুলোর গল্পদের হাশিমুখে ধামাচাপা দাঁও ? 
তোমার চোখের জল আমার নিত্যদিনের নিকোটিন
তোমার আর্দ্র দীর্ঘশ্বাস আমার প্রমত্ততার  পুরস্কার 
ভালবাসার ছলনায় যেদিন তোমায় দিন দুপুরে মোটা টাকায় রঙ্গমঞ্চের দালালদের কাছে বেচে দিয়েছিলাম
সেদিনও কি তুমি তোমার ওই পাথর দুটো চোখ দিয়ে সুখের সংসারের স্বপ্ন দেখে গেছিলে ? 
নাকি প্রতি রাতের মতন তোমার হতাশাগুলোকে চাপা উল্লাসের ফাঁকে লুকিয়ে রেখেছিলে ? 

দিনদুপুরের ঠুনকো লাল-বিপ্লব কাগুজে বাঘের মতন খশে পড়েছিল
ফুটপাতে শোওয়া আধা ল্যাংটো পাগলটা না খেতে পেয়ে কেঁদেছিল 
আর তুমি ? 
তোমার মুখের ভাত আমি ভেসুভিয়াস এর শিরায় ভাসিয়েছিলাম
আজও কেড়ে নিই, মনে হয় হাজার হাজার বছর ধরে কেড়ে এসেছি

কালবৈশাখীর জমাট বাঁধছে পশ্চিম কোনে
নরম মাটির বুক চিরে ভেসুভিয়াস এর হ্রদ বয়ে যায় গোধূলিতে বারোমাস 
সেইরকম কোন এক পাড়ে কোন এক নেশায় মাতোয়ারা কোন এক কালবৈশাখীর অন্ধকারে
একলা আমি, স্তব্ধ তুমি, আর হাজার না হওয়া গল্পের নাভিশ্বাস ।