আলেয়ার আলো

সাড়ে চার বাই সাড়ে ছ-ফুট কিউবিকেল এ বসে স্বপ্ন দেখার সময় প্রায় না থাকে বললেই চলে। গত দেড় বছর যখন অনুর্বর জমিতে চাষ করতে অক্ষম হয়েছিলাম, তখনই বোঝা উচিত ছিল গলদটা কোথায়। বুঝিনি, কারণ বুঝতে আমার দেরি হয়, যেরকম সব সময় হয়ে এসেছে। বাস্তবতা ও বিপ্লব যেন একে অপরের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী - আমার ইন্দ্রিয়গুলো যেন শুকিয়ে যায়, গা গুলিয়ে ওঠে। মনে হয়, সেই হাজার বছর ধরে যে গল্প লিখে এসেছি, যা আমার পিতৃপুরুষেরা শিখেছিল, তার গন্ডির বাইরে বেরুতে পারবো না। মনে হয়েছিল যেন শেষের কবিতা লিখবো আমার রক্ত দিয়ে। বদভ্যসে ধরেছিল, দু চারটে বিড়ি ধরিয়ে নদীতে পেচ্ছাপ করেছিলাম। যে হাংরি হয়েছিলাম, সে হাংরি আজও।

কোনোদিন ভক্তি ভরে হরে-কৃষ্ণ করা লোকগুলোর দিকে তাকাইনি, আজ যেন বুঝতে পারি, ওরা কেন এরম করে। কেমন আছো, জিজ্ঞেস করে সবাই। কি করে বলবো যে আমি ভাল আছি ? ভালো নয়, আমি তৃপ্ত।

সমুদ্রের বালি যখন কাপড়ের শেষ অংশটা শুষে নিয়েছিল, তখন পাড়ে পড়ে থাকা, আধা সজ্ঞান অবস্থায় নিজের নগ্ন দেহটাকে মেনে নিতে অসুবিধে হয়নি। প্রথমবার যেন নিজের ভেতরের অস্থিরতা, উন্মাদনার সঙ্গে এক হয়েছিলাম। আজও আছি।

আসলে সব লেখার মধ্যে আছে আবেগ। কোন লেখা পড়লেই যেন পুরোনো স্মৃতিগুলো মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলোতে ভিড় করে। অতএব আবেগের পুনরাবৃত্তি ঘটে, ঘটানোর চেষ্টা হয় - এই তো সব লেখার সত্য। এর উপরেই বাজি রাখতে সাহস পায়নি হয়তো এতদিন।

আমাদের মধ্যে, কথোপকথন এর ফাঁকে, ফোনের হালকা গরম স্পর্শে তুই ছিলিশ। হয়তো স্বপ্নের মতো দিনগুলো শেষ হলেও তুই ই থাকবি। যেমন ছিলিশ নতুন করে দাঁড়িয়ে ওঠার কোনো এক মুহূর্তে। ভেবে দেখিনি কতদিন, শুধু মাঝে মধ্যে গাল ভরে হেসেছি।

জীবন থাকতে মৃত্যুকে বেছে নিতে হয়নি আমায়। আলোটাকে আমিও দেখেছিলাম।